আইটিতে কতটা এগিয়েছে বাংলাদেশ??

২৬ মার্চ পূর্ণ হয়েছে স্বাধীনতার ৫০ বছর। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা অর্জন করতে পেরেছি অনেক কিছু। তারই একটি অর্জিত ফসল হলো তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নতি সাধন। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ প্রযুক্তি বিশ্বে অর্জন করে নিয়েছে নিজেদের একটি সম্মানজনক স্থান।
গত এক দশক থেকেই দৃশ্যমান হচ্ছে দেশে প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা। সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ হিসেবে আমাদের অগ্রযাত্রা শুরু। ইতিমধ্যে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটের মতো বড় প্রাপ্তি বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে অন্য রকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
টেলিযোগাযোগের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লক্ষ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লক্ষে উন্নীত হয়েছে। ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে দেশের সবকটি উপজেলাকে। টেলিযোগাযোগ খাতে বাংলাদেশের অন্যতম অর্জনের মধ্যে একটি হচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক 4G যুগে পা রাখতে পারা। ইতিমধ্যে 5G প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। ইন্টারনেটের গতি আরোও সুবিধাসম্পন্ন ও সহজলভ্য করতে দেশে যুক্ত হতে যাচ্ছে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাংলাগভর্নেট ও ইনফো সরকার-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর ফলে সরকারের ৫৮টি মন্ত্রণালয়, ২২৭টি অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং জেলা ও উপজেলার ১৮ হাজার ৫০০টি সরকারি অফিসকে নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আশা হয়েছে। ৮০০টি সরকারি অফিসে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম, ২৫৪টি অ্যাগ্রিকালচার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টার (এআইসিসি) ও ২৫টি টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে দেশের ৪৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫০০০। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে । সরকারী ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। দেশে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণার সঙ্গে মানুষের জীবনে এর প্রভাব পড়েছে। বড় পরিবর্তন এনেছে উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং সেবা। এ ক্ষেত্রে যেমন কর্মসংস্থান বেড়েছে, তেমনি অনেকের যাতায়াতে সুবিধাও হয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বিদ্যমান জাতীয় ডাটাসেন্টারটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেন্টারটির ওয়েবহোস্টিং ক্ষমতা ৭৫০ টেরাবাইটে উন্নীত করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি, রাজশাহীতে বরেন্দ্র সিলিকন সিটি, নাটোরে আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ও খুলনায় শেখ হাসিনা হাইটেক পার্ক সহ ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানি কমিয়ে দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন-এর হাইটেক ও মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কে দেশের প্রথম কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা চালু করা হয়।
৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে আইটি খাতে আমরা কতটা পরিশ্রমী, শক্তিশালী ও মেধাবী। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। আমাদের এই অর্জনের সাফল্যকে ধরে রেখে ডিজিটাল বাংলাদেশকে দুর্বার গতিতে সামনে আরও অগ্রসর করে নিয়ে যেতে হবে।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *